Monday, September 12, 2016

ণত্ব ও ষত্ব বিধান

● ণত্ব বিধান :
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ এর ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
● ণ ব্যবহারের নিয়ম :
➺ ট বর্গীয় ধ্বনির অাগে দন্ত্য ‘ন’ ব্যবহৃত হয়ে যুক্ত ব্যঞ্জন গঠিত হলে, সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন : ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড।
➺ ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন : ঋণ, মরণ, ভীষণ।
➺ ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, হ, ং এবং ক বর্গীয় ও প বর্গীয় ধ্বনি থাকলে পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ।
➺ কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন :
চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ,
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী,
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
অাপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি,
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ ভূণ
কফোণি বণিক গুণ,
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।
● ণ ব্যবহার হবে না :
➺ সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
যেমন: ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম।
➺ ত বর্গীয় বর্ণের সসাথে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, সাধারণত সবসময় ন হয়।
যেমন : অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, সন্ধ্যা, কান্না।
● ষত্ব বিধান :
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
● ষ ব্যবহারের নিয়ম :
➺ অ, অা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র এর পরের ষ-প্রত্যয়ের স থাকলে তা ‘ষ’ হয়।
যেমন : ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা।
➺ ই কারান্ত এবং উ কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন : অভিসেক > অভিষেক, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক।
➺ ঋ কার ও র এর পরে ষ হয়।
যেমন : ঋষি, কৃষক, বর্ষা, বর্ষণ।
➺ ট ও ঠ এর সঙ্গে যুক্ত হলে দন্ত্য ‘স’ না হয়ে মুর্ধন্য ‘ষ’ হয়।
যেমন : কষ্ট, স্পষ্ট, ওষ্ঠ, কাষ্ঠ।
➺ কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মুর্ধন্য ‘ষ’ বসে।
যেমন : অাষাঢ়, অাভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ, ঊষা, ঊষর, ঔষধ, ঔষধি, কলুষ, কোষ, তোষণ, দ্বেষ, পাষণ্ড, পাষাণ, পোষণ, ভাষা, ভাষ্য, ভাষণ, ভূষণ, শোষণ, ষটচক্র, ষড়যন্ত্র, ষণ্ড, মানুষ, ষোড়শী, সরিষা, রোষ।
● ষ ব্যবহার হবে না :
➺ বাংলা ও বিদেশী ভাষা থেকে অাগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন : পোস্ট, পোশাক, মাস্টার, জিনিস।
➺ সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন : অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ।

No comments:

Post a Comment