৫টি প্রশ্ন যা ইন্টারভিউতে প্রায়ই করা হয়
মো: বাকীবিল্লাহ
১১ এপ্রিল ২০১৫,শনিবার, ১৩:৪০
চাকরির জন্য ইন্টারভিউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। আসলে এ পর্যায়ে এসেই নির্ধারিত হয় চাকরিটি আপনি পাবেন কি-না। সেজন্য ইন্টারভিউতে করা প্রশ্নগুলোর যথাযথ ও কৌশলী উত্তর অতি জরুরি। কিছু সাধারণ প্রশ্ন আছে, যেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউতে করা হয়। সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি চাকরিদাতার কাছে আপনাকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে নি:সন্দেহে। আসুন জেনে নিই তেমনি ৫টি প্রশ্ন।
১. আপনার সম্পর্কে বলুন
এই প্রশ্নটি চাকরিদাতাকে আপনার পরিচয়, আগে কী কাজ করেছেন ইত্যাদি জানতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে আপনার ওপর প্রতিষ্ঠান কতটুকু নির্ভর করতে পারবে তা বোঝার চেষ্টা করেন চাকরিদাতা। তাই এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে আপনার পারিবারিক পরিচয়, পড়াশোনা, চাকরি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন। আর সর্বোচ্চ তিন মিনিট কথা বলুন এ ব্যাপারে। কারণ এর বেশি বলতে গেলে আপনি হয়তো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করতে পারেন।
২. চাকরিটির ক্ষেত্রে নিজেকে কেন যোগ্য মনে করছেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজাল্টর ফিরিস্তি তুলে না ধরে সংশ্লিষ্ট চাকরির সাথে সম্পর্কিত আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা বলুন।
৩. নিজেকে কিভাবে বর্ণনা করবেন?
নিজের সম্পর্কে বলুন-এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া যদি কঠিন মনে হয়, তাহলে চুপ থেকে হালকা সময় নিন। তাহলেই হয়তো এ প্রশ্ন পেতে পারেন। প্রশ্নটি নিজেকে মার্কেটিংয়ের একটি ভালো সুযোগ। আপনি আপনার ভালো গুনগুলোর দুয়েকটি উল্লেখ করুন। তার সপক্ষে সংক্ষেপে কোনো ঘটনার কথা বলুন। ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত এ প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার মৌলিক গুণ ও দক্ষতার কথা জানতে চান প্রশ্নকর্তা।
৪. আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোনটি?
এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ‘আমার কোনো দুর্বলতা নেই’ এমন উত্তর কখনো দিবেন না। মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কোনো না কোনো দুর্বলতা আছে। সুতরাং এ প্রশ্নে খারাপ লাগার কিছু নেই। আপনি সততার সাথে উত্তর দিন। এমন দুর্বলতার কথা বলুন, যা সংশ্লিষ্ট চাকরির সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়।
আপনি অবশ্য কৌশলী হয়ে প্রশ্নটিকে ইতিবাচকও বানিয়ে ফেলতে পারেন। বলতে পারেন, আপনি অতিমাত্রায় বাস্তববাদী। এ ক্ষেত্রে দুয়েকটি উদাহরণ দিন। অতি বাস্তববাদীতা আপনাকে কিভাবে সমস্যার মুখোমুখি করেছিল তা উল্লেখ করুন। একই সাথে সে সমস্যা থেকে কিভাবে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন তা-ও বলুন।
৫. আমাদের ব্যাপারে কিছু জানার আছে?
প্রায় সব চাকরিদাতাই ইন্টাভিউর শেষ দিকে এ প্রশ্ন করেন। এর উত্তরে এমন প্রশ্ন করুন যাতে মনে হয় এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আপনার বেশ আগ্রহ আছে। শুধু তাই নয়। বরং তাদের সাথে কাজ করতে আপনার ব্যাকুলতাও আছে। এক্ষেত্রে আপনি বুদ্ধিমত্তার সাথে তিন চারটি প্রশ্ন করুন। যেমন-
ক. প্রতিষ্ঠানের আগামী পাঁচ বছরের টার্গেট বা পরিকল্পনা কী?
খ. প্রথম মাসে কাজের ক্ষেত্রে আমার কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
গ. আমাদের টিমটি কয়জনের হবে? অথবা আমাকে কয়জনের সাথে কাজ করতে হবে?
ঘ. এ প্রতিষ্ঠানের কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?
চাকরির ইন্টারভিউর সব প্রশ্নের প্রস্তুতি হয়তো আগে থেকে নেয়া সম্ভব হবে না। তবে পরবর্তী ইন্টারভিউর আগে অন্তত সাধারণ ৫টি প্রশ্নের প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। আপনার জন্য শুভ কামনা।
ইন্টারভিউতে এই ১৫টি প্রশ্ন থেকে নিয়োগদাতারা আসলে যা জানতে চান
চাকরির ইন্টারভিউতে নিয়োগদাতারা ঘুরেফিরে সাধারণত ১৫টি প্রশ্নই করেন। আর এই ১৫টি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেই যে কেউ সহজেই যেকোনো চাকরির ইন্টারভিউতে পাস করে যেতে পারবেন। তবে এও সত্যি যে, চাকরির ইন্টারভিউতে আপনি হয়তো শত শত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। কিন্তু মূলত ১৫টি মূল প্রশ্নের ধারণাকে ঘিরেই ওই শত শত প্রশ্নের সৃষ্টি।
এই মৌলিক ১৫টি প্রশ্ন হলো :
১. নিজের সম্পর্কে বলুন
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মূলত জানতে চাওয়া হয়- আপনি নিজের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করেন? আর আপনি কি জানেন নিজের সম্পর্কে বলার সময় কী রাখতে হবে আর কী ফেলে দিতে হবে?
এই ধরনের কাছাখোলা প্রশ্নের আসলে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলতে হবে এবং কখন থামতে হবে তা উত্তরদাতাকেই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
২. এই চাকরির জন্য আপনি কেন আবেদন করেছেন?
এই প্রশ্নের আড়ালের প্রকৃত প্রশ্ন হলো- যা করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন আপনি তার কী করতে পারেন? বা আপনি কি আদৌ জানেন কী করার জন্য আপনাকে আমাদের প্রয়োজন?
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত যা জানতে চান তা হলো- 'আমি এই চাকরির জন্য আবেদন করেছি কারণ আমার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রেরণা সব এই চাকরির জন্যই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।'
এই প্রশ্নের উত্তরের প্রতিটি লাইনেই আবেদনকৃত চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্টের প্রতিফলন ঘটান। আর নিজের প্রয়োজনগুলো উল্লেখ করার আগে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা করুন।
৩. আপনার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাগুলো কী?
এই প্রশ্নের মানে হলো- আপনি সত্যিই নিজেকে চেনেন কিনা? আর আমাদের এখানকার সমস্যাটা কী তা কি আপনি জানেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় চাকরির দায়-দায়িত্বের বিবরণটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। এ ছাড়া বিশেষণ ব্যবহারে হালকা চালে এগোতে হবে আর মৌলিক তথ্য প্রদানের সময় ভারিক্কি বজায় রাখতে হবে।
৪. আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলো কী?
প্রকৃত প্রশ্ন : আমি আপনার সম্পর্কে ইতিমধ্যেই যা ভাবছি তা কি ঠিক? আর আপনি কি আগের সবার মতো একই ধরনের চাতুর্যপূর্ণ ও খোঁড়া উত্তরটিই দিতে যাচ্ছেন, নাকি আপনি আমার সঙ্গে পাল্লা দিতে যাচ্ছেন?
আর যাই করুন এই প্রশ্নের কোনো গতানুগতিক উত্তর দিতে যাবেন না যেন। কারণ এমনও হতে পারে এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতা মূলত আপনার সম্পর্কে পূর্ব অনুমানকৃত দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন। নতুন কোনো দুর্বলতার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইছেন না।
৫. আপনার দক্ষতা ও ধারণা এই কম্পানির কী কাজে লাগতে পারে?
প্রকৃত প্রশ্ন : আমাদের কাছে বেচার মতো আপনার কী আছে?
প্রশ্নটি শুনে এই ভেবে ঘাবড়ে যাবেন না যে, আপনাকে নিয়োগ না দিয়েই হয়তো তারা আপনার ধারণাগুলো চুরি করবে। তবে এমনটি ঘটাও অসম্ভব নয়। আর এটাই জীবন। এ ক্ষেত্রে আপনি উদারতা বা কৃপণতা যেকোনো একটি প্রদর্শন করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন কৃপণকে কেউই পছন্দ করে না।
৬. ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের ধরন কোনটি?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার সঙ্গে আমাদের মেলবন্ধন হবে কী-না?
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিয়োগদাতারা মূলত বুঝতে চান, আপনি নিজ দায়িত্বে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম কিনা। আর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যে পদবির উঁচুনিচু ভেদাভেদ আছে সে বিষয়টিও আপনি মেনে নিতে পারেন কিনা।
৭. আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি কি শুধু এই চাকরিটিই পেতে চাইছেন নাকি যেকোনো চাকরি হলেই আপনার চলবে? আগামী কতদিনের মধ্যে আপনার জন্য নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের দরকার হবে? আর আমরা আপনাকে কী প্রস্তাব দিতে পারি সে ব্যাপারে আপনার কোনো বাস্তব ধারণা আছে কিনা?
আপনি যদি সত্যিই বুঝতে না পারেন আগামী পাঁচ বছরে আপনি ঠিক কোথায় পৌঁছাতে পারবেন তাহলে সেটি খোলাখুলি বলে দেওয়াই ভালো।
আর আপনি এই কম্পানিতেও সফল হবেন তা বলার আগে এ পর্যন্ত আপনার সফলতাগুলো সম্পর্কে প্রশ্নকর্তাকে বিস্তারিতভাবে জানানোর চেষ্টা করুন।
৮. এই চাকরি সম্পর্কে আপনার মনোভঙ্গি কী?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি আমাদের সম্পর্কে আসলে কতটা জানেন? আমাদের যা প্রয়োজন সে ব্যাপারে আপনি কতটুকু কী করতে পারবেন? আপনার পছন্দনীয় কাজের ধরনটা কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের পরিকল্পনার ব্যাপারে কথা বলার আগে কূটনীতি নিয়ে কথা বলুন। আর সতর্ক থাকুন। এই প্রশ্ন আপনাকে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে বলার একটা সুযোগও করে দিতে পারে, যা হয়তো বর্তমান চাকরিতে আপনার ভূমিকার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। তবে কোনো কম্পানিতে কাজ শুরু করার আগেই সে কম্পানিটি কীভাবে চলে তা আপনি নাও বুঝতে পারেন। সুতরাং নির্বিচার কোনো মন্তব্য করে ফেঁসে যাবেন না যেন।
৯. অন্যত্র আপনি কী অর্জন করেছেন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার কাছ থেকে সবচেয়ে ভালো কোন জিনিসটা আমরা পেতে পারি? আপনার সেই অর্জনটাই কি আমাদের দরকার?
সুসংবাদ! এই প্
সুসংবাদ! এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে মূলত এবার আপনি নিজের ঢোলটি পেটানোর সুযোগ পেয়ে গেলেন। এর উত্তরে প্রধানত কর্মক্ষেত্রসংশ্লিষ্ট নিজের সাম্প্রতিক অর্জনগুলোর ওপর জোর দিয়ে আলোকপাত করুন। এ সময় আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করুন- যা নিয়োগদাতারাও আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন।
১০. আগের চাকরির কী কী আপনি পছন্দ বা অপছন্দ করতেন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনি আমাদের কাছে এমন কী চান যা আপনার আগের চাকরি আপনাকে দিতে পারেনি? আমরা আপনাকে সেটা দিতে সক্ষম বলে মনে করেন কি?
এ প্রশ্নের উত্তরে কোনো রাগ দেখাবেন না। অথবা আপনার বর্তমান বা আগের নিয়োগদাতাকে দোষারোপ করবেন না। আপনি বরং এই প্রশ্নটিকে আগের চাকরির যেসব বিষয় আপনি সত্যিই পছন্দ করতেন না সেসব বিষয় তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। তবে আপনার অভিযোগের পক্ষে সুদৃঢ় যুক্তি ও কর্মনীতি পরায়ণতা প্রদর্শন করুন। কর্মনীতির ব্যাপারে আপসহীনতা আপনাকে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি উতরে যেতে সহযোগিতা করবে।
১১. দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞাতা সম্পর্কে বলুন.....
প্রকৃত প্রশ্ন : কেউই একা একা কোনো কিছু অর্জন করতে পারে না- আর আপনিও সেটা জানেন, ঠিক?
এই প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়ে মূলত সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার সামর্থ্য সম্পর্কে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে। সূতরাং এর উত্তরে সাম্প্রতিক সময়ে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো সাফল্য সম্পর্কে জানান দিন।
১২. সহকর্মীরা আপনার সম্পর্কে কী বলে?
প্রকৃত প্রশ্ন : এই প্রশ্ন শুনে আপনি স্থির আছেন না উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন? আপনি কি আত্মসচেতন নাকি শুধু আত্মচেতনাধারী?
যাদেরকে আগে থেকেই তাদের নিজেদের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সত্য ও প্রকৃত ধারণা দেওয়া হয়নি তারা এই ধরনের প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এই প্রশ্নের উত্তরে কোনো বিশেষণমূলক বিবৃতি নয় বরং বাস্তব সাক্ষ্য-প্রমাণ সরবরাহ করুন।
১৩. মানসিক চাপ ও ব্যর্থতা সামলান কী করে?
প্রকৃত প্রশ্ন : চাপ বাড়তে থাকলে কি আপনি দানবীয় রুপ ধারণ করবেন, একটি অপদার্থে পরিণত হবেন, নাকি সাফল্যের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নজির স্থাপন করবেন?
প্রতিটি কাজেই কমবেশি মানসিক চাপ রয়েছে। সূতরাং একেবারেই মানসিক চাপমুক্ত কোনো জগতে বাস করছেন বলে ভান করবেন না। এর আগে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনি কী করেছেন তার বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।
১৪. আপনার কত টাকা প্রয়োজন?
প্রকৃত প্রশ্ন : আপনার চাহিদা কি আমরা পূরণ করতে পারব? আপনি কি টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে চাকরির সিদ্ধান্ত নেন?
এই প্রশ্নটি সব সময়ই একটু কঠিন। ইন্টারভিউতে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাই উত্তম। আর পরবর্তী চাকরির ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে এই ধরনের প্রশ্ন মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে।
১৫. আপনার সৃজনশীলতা দেখান
প্রকৃত প্রশ্ন : এখানে গোপন করার কিছুই নেই- আপনি কি সৃজনশীল?
যদিও সরাসরি কখনো এত শব্দ ব্যয় করে আপনাকে এই প্রশ্নটি করা হবে না। তথাপি আপনাকে অবশ্যই এমন কোনো প্রশ্ন করা হতে পারে যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য থাকবে আপনার সৃজনশীলতা পরখ করে দেখা।
ইন্টারভিউ’র জন্য সেরা কিছু প্রশ্ন-উত্তর
in লাইফস্টাইল আগস্ট ১১, ২০১৬
ফাস্ট বিডিনিউজ ●
ইন্টারভিউ। কম বেশি সবার মনেই ভীতির সৃষ্টি করে। কারন এই ইন্টারভিউর ২ মিনিট ই একজন মানুষের ক্যারিয়ার নির্ধারন করে। এই ইন্টারভিউতে অনেক সাহসী লোক ও অনেক সময় ঘাবড়ে যান। আর অনেক সময় তো একের অধিক ইন্টারভিউয়ার থাকে। একেক জনের একেক প্রশ্নের উত্তরের ভার অনেকেই নিয়ে উঠতে পারে না। অনেক ভালো রেজাল্টের অধিকারীরা ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। আর এখানেই হয় ভুল। কারন ইন্টারভিউ তে প্রথমতই ইন্টারভিউরার রা দেখবে আপনার আত্মবিশ্বাস। তারা আপনাকে বিপাকে ফেলতে চাইবেই এটা দেখার জন্য যে আপনি ঘুরে দাড়াতে পারবেন কিনা। তারা আপনাকে অতি সাধারণ প্রশ্ন গুলোই করবে আর আপনাকে সেগুলোর উত্তর দিতে হবে বুদ্ধিমত্তার সাথে। তবে মনে রাখবেন আজকাল বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান গুলোতেই ইংলিশে ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। তাই সেভাবেই পস্তুত হন। আসুন জেনে নেই কিছু সাধারণ প্রশ্ন উত্তর যা ইন্টারভিউয়ার রা বেশির ভাগ সময় ই করে থাকে-
সর্বপ্রথম কমন একটি প্রশ্ন হল ‘নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন’।( Tell us something about yourself)
কি? প্রশ্ন টি খুব সোজা তাইনা। নিজের সম্পর্কে বলা তো কোন ব্যপার ই না। কিন্তু আপনি জানেন কি এই প্রশ্ন টির মাধ্যমেই অনেকেই বুঝে নেয় যে আপনি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কথা বলতে পারবেন কিনা। তাই এই প্রশ্ন টি খুব গুরুত্বপূর্ন। আর এই প্রশ্ন টি তেই বেশির ভাগ মানুষ ভুল করে। প্রার্থীরা বুঝে উঠে না যে, তারা ব্যাক্তিগত ব্যাপার নিয়েই বলবে নাকি প্রফেশনাল ও। আর কোত্থেকেই বা শুরু করবে বলা। বা পরিবার নিয়ে কিছু বলবে কিনা। কিন্তু সাবধান, মনে রাখবেন ইন্টারভিউয়ারের আপনার পরিবারের সম্বন্ধে জানার বিন্দু মাত্র ও আগ্রহ নেই। তাহলে জেনে নিন কি করবেন আর কি করবেন না-
যা করবেন
• আপনার উত্তরটি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং নির্দিষ্ট পয়েন্টে রাখবেন।
• আপনার আগের কাজ সম্পর্কে বলবেন। অর্থাৎ আপনি সেখান থেকে কি কি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেগুলো বলবেন।
• ইন্টারভিউ তে যাওয়ার আগে কোম্পানি আপনার মধ্যে কি কি গুন চাচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার হয়ে নেবেন এবং আপনার দক্ষতা গুলো কে সেগুলোর সাথে অ্যাডজাস্ট করে বলার চেষ্টা করবেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন তা যেন অতিরিক্ত না হয় এবং কোন মিথ্যা কথা বলবেন না।
যা করবেন না
• আপনার ব্যাক্তিগত কোন ঘটনা বলবেন না।
• পরিবার সম্পর্কে বলবেন না। তবে হ্যা ইন্টারভিউয়ার নিজ থেকে জিজ্ঞাসা করে কেবল তখন ই বলবেন।
আমরা আপনাকে কেন নেব? (why Should i hire u?)
এই প্রশ্নের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ার জেনে নেয় যে আপনি নিজের প্রতি কতটুক আত্মবিশ্বাসী। এক্ষেত্রে আপনার বর্তমান কাজের অভিজ্ঞতা, কোন সমস্যা সমাধান করার অভিজ্ঞতা, আপনি অনেক পরিশ্রমী ও দক্ষ ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করতে পারেন। এছাড়া যদি আপনি fresher হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট করে থাকলে সেগুলো বলবেন।
যা করবেন
• আপনার সাক্সেস স্টোরি বলবেন।
• আপনার ইউনিক পয়েন্ট তুলে ধরুন।
যা করবেন না
• কখনই হতাশ হবেন না যদি ইন্টারভিউয়ার বলে যে তাদের অনেক কোয়ালিফাইড কর্মচারী আছে এবং আপনি তাদের তুলনায় কি করতে পারবেন । কারন আমি আগেই বলেছি তারা আপনার আত্মবিশ্বাস দেখবে।
আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দূর্বলতা কি? (What are your biggest Strength and Weakness?)
আপনি কতটুক সৎ তা দেখার জন্য ইন্টারভিউয়ার এই প্রশ্ন টি করে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে আগেই ভেবে রাখতে হবে। যেন প্রশ্নটার উত্তরও খুব সহজেই আপনি বলতে পারেন। নিঃসন্দেহে আপনার সেই শক্তিগুলো আছে। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ড এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি এগুলো নিয়ে ভাবার সময় পাবেন না। আর আগে থেকে ভেবে না রাখলে আপনি শক্তি ও দুর্বলতা গুলো নিয়ে ভাবার পর কোন টি ইন্টারভিউয়ার কে বলবেন সেটা নিয়েই কনফিউসড হয়ে যাবেন। তাই আগেই এই প্রশ্নের উত্তরের পস্তুতি নিন। যেমন- আপনার শক্তি হতে পারে Inteligence (বুদ্ধিমত্তা), Honesty (সততা), সকলের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা, সেন্স অফ হিউমার, গুড কমিউনিকেশন স্কিল, সিরিয়াসনেস প্রভৃতি। তবে হ্যা অবশ্যই সত্যি কথা টি বলবেন। কারন ধরেন অনেক ইন্টারভিউয়ার আপনার সততা পরিক্ষার জন্য বলে ফেলল যে আপনি যে সৎ তার একটা উদাহরন দিন। তখন যদি আপনি বলতে না পারেন তাহলে চাকরি তো পাবেন ই না উল্টো তাদের কাছে মিথ্যাবাদী প্রমানিত হবেন। আবার দূর্বলতার ক্ষেত্রেও এমন কিছু দূর্বল দিক বলে ফেলবেন না যেটা আপনার চাকরির জন্য দরকার। যেমন ধরেন- আপনার চাকরি টি কাস্টমার কেয়ার এর। আর আপনি দূর্বলতা বললেন যে আপনার কমিউনিকেশন পাওয়ার ভালো না। সেক্ষেত্রে ফলাফল হল চাকরি হাতছাড়া। তাই ভেবে চিন্তে উত্তর দিবেন।
যা করবেন
• আপনার সম্পর্কে বলার এটি একটি সুযোগ। এটি হাতছাড়া করা যাবে না।
• চাকরির চাওয়ার সাথে মিল রেখে শক্তি ও দূর্বলতা গুলো বলবেন।
• উত্তরের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়া
আপনি কতটুক সৎ তা দেখার জন্য ইন্টারভিউয়ার এই প্রশ্ন টি করে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আপনাকে আগেই ভেবে রাখতে হবে। যেন প্রশ্নটার উত্তরও খুব সহজেই আপনি বলতে পারেন। নিঃসন্দেহে আপনার সেই শক্তিগুলো আছে। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ড এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি এগুলো নিয়ে ভাবার সময় পাবেন না। আর আগে থেকে ভেবে না রাখলে আপনি শক্তি ও দুর্বলতা গুলো নিয়ে ভাবার পর কোন টি ইন্টারভিউয়ার কে বলবেন সেটা নিয়েই কনফিউসড হয়ে যাবেন। তাই আগেই এই প্রশ্নের উত্তরের পস্তুতি নিন। যেমন- আপনার শক্তি হতে পারে Inteligence (বুদ্ধিমত্তা), Honesty (সততা), সকলের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা, সেন্স অফ হিউমার, গুড কমিউনিকেশন স্কিল, সিরিয়াসনেস প্রভৃতি। তবে হ্যা অবশ্যই সত্যি কথা টি বলবেন। কারন ধরেন অনেক ইন্টারভিউয়ার আপনার সততা পরিক্ষার জন্য বলে ফেলল যে আপনি যে সৎ তার একটা উদাহরন দিন। তখন যদি আপনি বলতে না পারেন তাহলে চাকরি তো পাবেন ই না উল্টো তাদের কাছে মিথ্যাবাদী প্রমানিত হবেন। আবার দূর্বলতার ক্ষেত্রেও এমন কিছু দূর্বল দিক বলে ফেলবেন না যেটা আপনার চাকরির জন্য দরকার। যেমন ধরেন- আপনার চাকরি টি কাস্টমার কেয়ার এর। আর আপনি দূর্বলতা বললেন যে আপনার কমিউনিকেশন পাওয়ার ভালো না। সেক্ষেত্রে ফলাফল হল চাকরি হাতছাড়া। তাই ভেবে চিন্তে উত্তর দিবেন।
যা করবেন
• আপনার সম্পর্কে বলার এটি একটি সুযোগ। এটি হাতছাড়া করা যাবে না।
• চাকরির চাওয়ার সাথে মিল রেখে শক্তি ও দূর্বলতা গুলো বলবেন।
• উত্তরের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ার কে বুঝাবেন যে আপনি আপনার দূর্বলতা সম্পর্কে অবগত এবং আপনি সেটা ওভারকাম করছেন।
যা করবেন না
• দূর্বলতা বলার ক্ষেত্রে কখনোই নিজ থেকে বর্ননা দিতে যাবেন না।
• বেশি স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে কখনোই বলবেনা না যে আপনি পারফেক্ট (I’m a perfectionist).
আপনি কেন আমাদের সাথে কাজ করতে চান? (Why you want to work with us?)
আরো তো অনেক কোম্পনী আছে। তাহলে কেন আপনি আমাদের সাথে কাজ করতে চাচ্ছেন? এই প্রশ্ন টি তারা করে থাকে এটা জানার জন্য যে, আপনি যে তাদের কোম্পনী তে কাজ করতে চাচ্ছেন তার পিছে কি মোটিভেশন কাজ করে আপনার মধ্যে। তবে কখনোই এমন উত্তর দিবেন না যেটায় মনে হবে যে আপনার চাকরিটি দরকার। এমন উত্তর দিবেন যেন মনে হয় যে আপনি ই তাদের এই পোস্ট এর জন্য পারফেক্ট।
যা করবেন
• অবশ্যই কোম্পানী সম্পর্কে পূর্ন ধারনা নিয়ে নিবেন।
• কোম্পানীর কি কি আপনার পছন্দ বিস্তারিত বলবেন।
যা করবেন না
• কখনোই বলবেন না যে আপনার টাকার দরকার বা আপনি বেকার তাই কাজ করতে চান।
পুরনো চাকরি টি কেন ছেড়েছেন? (Why did you leave your previous job?)
এটি একটি চ্যেলেঞ্জিং প্রশ্ন যেটায় অনেকেই নার্ভাস হয়ে যায়। তারা আসলে জানতে চায় যে এমন কি কারন আছে যার কারনে আপনি চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরির সন্ধান করছেন। কারন হয়তো এক সময় আপনি তাদের এই চাকরিটিও ছাড়তে পারেন এই এক ই কারনে। তাই তারা এটা আগে থেকেই জানতে চায়।
যা করবেন
• বলতে পারেন নতুন সুযোগ এর জন্য।
• অথবা বলতে পারেন ভালো একটা কোম্পানী তে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য।
যা করবেন না
• ভুলেও আগের কোম্পানী বা বসের নামে খারাপ কিছু বলতে যাবেন না। তাহলে ইন্টারভিউয়ার ভাববে যখন আপনি এখান থেকেও অন্য কোম্পনীতে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন তখন তাদের কথা ও এরকম ই খারাপ কিছু বলবেন।
• যদি বর্তমান কম্পানী থেকে ও আপনার চাকরি থেকে না করে দেয়া হয় সেটা লুকাবেন না।
পাঁচ বছর পরে নিজেকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান? (Where Do You See Yourself in 5 years?)
এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ার ধারনা নিবে যে আপনি আদৌ তাদের কোম্পানীতে বেশি দিন কাজ করতে চান কিনা। একটা কোম্পানীর জন্য ইন্টারভিউ নেয়া যেমন কষ্ট ও সময়ের ব্যাপার তেমনি আপনার জন্য ও। তাই তারা চায় একটা লং টাইমের জন্য কর্মী নিয়োগ দিতে। আর এজন্যই আপনাকে প্রশ্ন টি করা।
যা করতে হবে
• বলতে পারেন যে, আপনি নিজেকে একজন সফল কর্মী হিসেবে দেখতে চান।
• বড় একটি পোস্ট এর নাম নিয়ে বলতে পারেন যে আপনি ওই পোস্ট এ যেতে চান।
• অবশ্যই পোস্ট টি এই কোম্পানীর নাম নিয়ে বলবেন।
যা করবেন না
• কখনোই অন্য কোন কোম্পানীর নাম নিয়ে বলবেন না যে আপনি ঐ কোম্পানীতে যেতে চান।
আপনি কেমন বেতন কাঠামো আশা করছেন? (What is your salary requirement?)
এক্ষেত্রে কোম্পানী আপনার চাওয়া সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে। এজন্য পস্তুত থাকবেন।
যা করবেন
• বলতে পারেন যে এই কোম্পানীর বেতন কাঠামো আপনি জানেন।
• এছাড়া সরাসরি ও বলতে হতে পারে। তাই আগে থেকে নির্ধারন করে রাখুন।
যা করবেন না
• পোস্ট অনুযায়ী বেতনের প্রত্যাশা বলবেন। অনেক উচ্চ বেতন স্কেল বলবেন না।
আমাদের সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে বলুন? (Do you have any Questions for us?)
এ প্রশ্ন টি প্রায় সব ইন্টারভিউয়ার ই ইন্টাভিউর শেষ দিকে করেন। কখনোই বলবেন না আপনার কিছু বলার নেই তাহলে মনে হবে আপনি এই কাজের ব্যাপারে আগ্রহী না। আপনি জানেন কি প্রায় ৭৫% চাকরি প্রার্থী বলেন যে তাদের কোন প্রশ্ন নেই। আপনি যেখানে কাজ করবেন অবশ্যই আপনার কিছু প্রশ্ন থাকা উচিত। আর প্রশ্ন করলে মনে হবে আপনি এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সাথে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন হতে পারে-
• প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
• প্রথম মাসে কাজের ক্ষেত্রে আমার কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
• আমাদের টিমটি কয়জনের হবে? বা আমাকে কয়জনের সাথে কাজ করতে হবে?
• প্রশ্ন করতে পারেন যে আপনার মধ্যে কি এমন কিছু আছে যার কারনে আপনাকে তারা চাকরি টি না ও দিতে পারে?
পরিশেষে, কখনোই হার মানবেন না। সর্বদা সব কিছুর জন্য পস্তুত থাকুন। আমার দেয়া প্রশ্ন গুলো খুব ই কমন এবং বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে এই প্রশ্ন গুলো করে থাকে। আপনি কাজের এবং নিজের প্রতি কতটুক আত্মবিশ্বাসী তা জানার জন্যেই মূলত এই প্রশ্ন গুলো করা। তাই আত্মবিশ্বাসের কমতি হলে হবে না।
সর্বশেষে, ব্যাক্তিগত জীবন হোক বা পেশাগত সৎ থাকুন। ভালো থাকুন।
No comments:
Post a Comment