খ্রিষ্টের জন্মের ১০০ বছরের কাছাকাছি সময়ে মানুষ বাষ্পের শক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। আলেকজান্দ্রিয়ার অধিবাসী হিরো সর্বপ্রথম বাষ্পচালিত টারবাইন তৈরি করেন। এটা ছিল একটা ছোট বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। ইংল্যান্ডের অধিবাসী টমাস নিউকম্যান ১৭০৭ খ্রিষ্টাব্দে কয়লার খনি থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি বাষ্প ইঞ্জিন তৈরি করেন। কিন্তু এ ইঞ্জিনে অনেক জ্বালানি দরকার হতো। তারপর ১৭৬৫ খ্রিষ্টব্দে জেমস ওয়াট একটি উন্নত ধরনের বাষ্প ইঞ্জিন তৈরি করেন। এ ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয় ভালেভর সাথে যুক্ত রাখা হতো।একটি পিষ্টনোও ছিলো যা উপরে নিচে ওঠা রামা করত।১৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে রবার্ট ফুলটন নামক ব্যক্তি নৌকা টে নে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাষ্পইঞ্জিন ব্যবহার করেন। তারপর ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের অধিবাসী জর্জ স্টিফেনসন প্রকৃত অর্থে বাষ্পইঞ্জিন তৈরির গৌরব অর্জন করেছিলেন। যদিও ইঞ্জিনটি খুব ভারী ছিল তথাপি ছিল খুব কার্যকরী ও ভারী। বাষ্পচালিত প্রথম যাত্রীবাহী মালবাহী রেলগাড়ি চলে ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে।রেল ইঞ্জিনের প্রচন্ড রকম উন্নতি ঘটে ১৮৩৮খ্রিষ্টাব্দের ভেতরে। ১৮৯৫ সালে তৈরি হয় প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১২ সালে সুইজারল্যান্ডে প্রথম ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি হয় এবং ১৯৩০ এর দশকে ইউরোপ ও আমেরিকায় রেলগাড়ি চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এতে বাষ্প ইঞ্জিনের গুরুত্ব কমে যায়। প্রকৃতপক্ষে তড়িৎ চালিত ইঞ্জিনের বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে।বর্তমানে ফ্রান্সের রেলাড়ির গতিবেগ ঘন্টায় ৩৭৫ কিলোমিটার । জাপানের তৈরি পৃথিবীর দ্রুততম রেলগাড়ির গতিবে ঘন্টায় ৪৫০ কিলোমিটার। জাপানিরা চৌম্বক শক্তি দ্বারা রেলগাড়ি চালানোর সফলতা অর্জন করেছে। ইংল্যান্ডের ফ্লাইং স্কটম্যান প্রথম পথি মধ্যে কোথাও না থেমে পৃথিবীর দীর্ঘতম পথ রেলপথে অতিক্রম করার গৌরব অর্জন করেছেন। প্রথম পথি মধ্যে কোথাও না থেমে পৃথিবীর দীর্ঘতম যাত্রার রেলগাড়ি হলো এলিজাবেথ। এ ট্রেনটি কিংগসক্রস থেকে এডিনবার্গ যাতায়েত করে। উক্ত স্থান দুটির ভেতরের দূরত্ব ৬৩২.৫ কিলোমিটার (৩৯৩ মাইল)। দূরত্ব অতিক্রম করতে ট্রেনটির সময় লাগে ৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। আমাদের উপমহাদেশের রেল চলাচল প্রথম শুরু হয় বম্বে ও থানার মধ্যে ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে।


No comments:
Post a Comment