এইডস! একটি মারাত্মক রোগ। তবে বর্তমানে এই রোগ সম্পূর্ণ ভাল ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে আশার কথা হল বিজ্ঞানীরা বলেছেন অদূর ভবিষতে এই রোগ বা ভাইরাস ১০০% নির্মূল করা সম্ভব হবে। প্রতিরোধই এই রোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচার একমাত্র আবরনী বা রক্ষা কবজ। এই রোগের সহজ ওষুধ হল কবীরা গুণাহ থেকে দূরে থাকা। অমুসলিম প্রধান জাতিসংঘের হিসেবে ও বিবিসির তথ্য মতে বর্তমানে বিশ্বে ৩ কোটির বেশি এইডস রোগী আছে। আমাদের বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা সরকারী হিসেব মতে ২৫০০ জন। এই রোগ বা ভাইরাস নির্মূল করার কোন ওষুধ যা আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা তা খুবই ব্যয় বহুল। তবে ঐ রোগের ভাইরাস নির্মূলের ক্ষেত্রে ৮৮% সফল হওয়া গেছে। ১০০% সফল ওষুধ আবিষ্কারের কাজ চলছে। এক সময় এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার হয়ে যাবে। এটা হল বিশ্ববাসীর জন্য সুসংবাদ। পাশাপাশি দুঃসংবাদও আছে। বর্তমানে প্রতিদিন সাড়া বিশ্বে ১২/১৩ হাজার মানুষের এইডস আক্রান্ত হয়ে বারোটা বাজছে। প্রতিদিন এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে ৮৫০০ জন মানুষ। এই রোগ হতে মানুষকে সচেতন করতে ১ ডিসেম্বর পালন করা হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। তবে এটা ক্রমশ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, অবরনী ও দামি ওষুধ ব্যবহারের ফলে। এইডসে রোগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী। তার মূল কারণ হল- মহান আল্লাহ্র ধর্ম ইসলামী শরীয়তে মহিলা ও পর পুরুষের মাঝে পর্দা বা আবরনী না থাকার ফলে এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। সে যাই হোক এর পুরো নাম হল- Acquired Immune Deficiency Syndrom। যার বাংলায় অর্থ করলে দাড়ায় “মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কমতি ”।
এই ভাইরাস কিভাবে কাজ করেঃ
এই ভাইরাস রক্তের লিম্ফো সাইট রক্ত কনিকা গুলোকে খেয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে দেহের সমস্ত টি লিম্ফোসাইট গুলোকে মেরে ফেলে এই ভাইরাস। ফলে শরীরে মধ্যে এক সময় আর কোন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে না। আর রক্তের লিম্ফোসাইড রক্ত কনিকার কাজ হলো রক্তের রোগ জীবানু বা ব্যকটেরিয়াকে ফ্যাগোসাইটোসিস সিষ্টেমে খেয়ে ফেলে। অর্থাৎ যে রক্ত কনিকা আমাদের শরীরে রোগ জীবানু খেয়ে ফেলে, এই ভাইরাস সেই রোগ প্রতিরোধক কনিকা গুলোকেই খেয়ে ফেলে। ফলে ভাইরাস আক্রান্ত দেহে রোগ আর ভাল হয় না।
মানব দেহের কোথায় বাস করেঃ
এইচ আইভি ভাইরাস শরীরের বিভিন্ন জলীয় অংশে বাস করে। যেমন- রক্ত, পুরুষের বীর্য, মেয়েদের যৌন রস, বুকের দুধ, মুখের লালা, ঘাম ও চোখের পানিতে। তবে মুখের লালা, ঘাম ও চোখের পানিতে এই ভাইরাস এত কম থাকে যে, সেটা দিয়ে নতুন করে কেউ সংক্রমিত হতে পারে না। এখন প্রশ্ন হল- মশা কি মানুষের শরীর থেকে রক্ত খেয়ে এই ভাইরাস অন্য মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে ছড়াতে পারে না। এমন কি এইচআইভি ভাইরাস রক্তের সাথে মশার দেহে গেলে ও সেখানে এই ভাইরাস মারা যায়। তাই এই ভাইরাসকে কিল ধ্বংস করার জন্য যে সব বিজ্ঞানী ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। তাদের জন্য এটা, একটা সহজ ক্লো বা কৌশল হল। তাই এমন ওষুধ আবিষ্কার করতে হবে- ওষুধ খেলে আমাদের শরীরের রাসায়নিক অবস্থা, মশার দেহের রাসায়নিক অবস্থার মত হয়। কারণ মশার শরীরের রাসায়নিক গুণাগুণ এমন যে, মশার দেহে এই ভাইরাস ঢুকলেও সেখানে এই ভাইরাস মারা যায়। এটাই এই ভাইরাস নির্মূল করার সহজ উপায়।
বিশব্যাপী এইডসের বিস্তারঃ
আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে এইডস রোগীর সংখ্যা ৫৭০০০০০ জনের বেশি, মিয়ানমারে-৩৩৬,০০০ থাইল্যান্ডে-৫৬০,০০০, পাকিস্তানে-৮০,০০০, নেপালে-৭৫,০০০, শ্রীলংকায়-৫০০০, বাংলাদেশে-২৫০০, চীনে-৬৫০,০০০ জন। তাছাড়াও আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের দেশ গুলো বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ও আমেরিকায় এই রোগীর সংখ্যা প্রচুর।
এইডস রোগে ওষুধ কোয়ার্ড আবিষ্কার ঃ সারা বিশ্বের এইডসের রোগীদের জন্য কোয়ার্ড নামের নতুন ১টি ওষুধ বাচাঁর আশার আলো দেখাচ্ছে। মার্কিনীদের সদ্য আবিষ্কত এই ট্যাবলেটটা দিনে মাত্র ১টা খেলেই চলে। এইচআইভি চিকিৎসায় এই ওষুধটা দারুন সাফল্য দেখিয়াছে। আমেরিকাতে এই কোয়ার্ড নিয়ে ব্যাপক ক্লিনিক্যাল ট্র্য়াল সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তাতে অনেক রোগী বেশ উপকৃত হয়েছে। এই ট্রায়ালে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন-যত রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৮৮% সফল হয়েছে। এই কোয়ার্ড ওষুধে রয়েছে ৪ প্রকার উপাদান। ৪ ধরনের উপাদানগুলো হল- টেনোফভির, এমটিসিটাবাইন, এলফাইটিগ্রাভিন নামের নতুন ১ টি অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ড্রাগ ও কভিসিস্ট্রাস নামে ১টি এন হেনসিস্টারের সংমিশ্রণ। এইডসের চিকিৎসায় ১৯৯৫ সাল থেকেই ট্রিপল থেরাপি ককটেল বা ৩ টি উপাদানের ওষুধ ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে এই প্রথম ৪ প্রকার উপাদানের মিশ্রিত থেরাপি আশ্চর্য সাফল্য দেখাল। তবে এই কোয়ার্ড ওষুধের দাস এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে দাস খুব বেশিই নির্ধারণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেমন- এটট্রিপলা ওষুধের খরচ পড়ে বছরে ২২০০০ ডলার মাসে প্রায় ২০০০ ডলার। অথচ ভারতের সিপলা ওষুধ কোম্পানি, ঐ একই ওষুধের জেনেরিক করে বাইরাডে নামক ওষুধের জন্য রাখে মাত্র ২০০ ডলার। তাই দেখা যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো খরচের তুলনায় বেশ কয়েক গুণ লাভ করে থাকে। আশা করা হচ্ছে- আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনেস্টকান এই ওষুধটার বাজারজাতকরনের অনুমোদন দিবে।
এইডসের টিকা আবিষ্কারে চীনের সাফল্যঃ
বিশ্বব্যাপী এইডসের টিকা ও নির্মূলের ওষুধ আবিষ্কারের বেশ কয়েকটি দেশ সাফল্যের দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে। তার মধ্যে আছে চীন, ইসলামী ইরান, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি। যেহেতু এইচ আইভি ভাইরাসটি প্রথমত আফ্রিকার বানর থেকে কোন ভাবে মানুষের দেহে এসেছে। ইহাকেই সামনে রেখে ইরান, বানরের রক্ত থেকেই এইডসের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করেছে। অপর দিকে চীন ১৯৯৩ সালে এর ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ফলে দেশটি এইডসের টিকা উদ্ভাবনে প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে। সম্প্রতি চীনের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এইডস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন সেন্টারের প্রধান সাও ইমিং বলেছেন- এই পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ সাফল্যের সাথে শেষ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন চীন ২০০৫ সালে গুটি বসন্তের টিকা থেকে এইডসের ১টি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে। ২০০৭ সালেই এর প্রয়োগিক পরীক্ষা শুরু হয়। এরই মধ্যে অনেক দেশ পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ও শেষ করেছে। কিন্তু অনেক দিন ধরে গবেষণার পরও কোন দেশই এখন পর্যন্ত তৃতীয় বা চুড়ান্ত (প্রয়োগিক) পর্যায়ে যেতে পারেনি। তবে আশার কথা হল- চীন ও ইরান এর ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা সবার থেকে এগিয়ে আছে।
এইডস প্রতিরোধক প্রোটিন আবিষ্কারঃ
উদ্ভিদের মধ্যে প্রথম বারের মত পাওয়া গেল এইডস প্রতিরোধক প্রোটিন। এই উদ্ভিদের নাম- “নিকোটিয়ানা বেনথামিয়ানা”। এটা তামাক জাতীয় উদ্ভিদ। এর মধ্যে বিজ্ঞানীরা যে প্রোটিন পেয়েছেন- তা এইচআইভির বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে-এ ধরনের প্রোটিনভিত্তিক অনুজীবেরা এইডসের বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়। এ ধরনের প্রোটিন তৈরি ব্যয় বহুলও বটে। তামাকের মোজাইক ভাইরাস ব্যবহার করে এই উদ্ভিদ থেকে লাল শৈবাল দিয়ে গ্রিফথসিন (জিআরএফটি প্রোটিন) এইচআইভির বিরুদ্ধে কার্যকরী। তবে এরা ভাইরাসের সাথে থাকা কিছু সুস্থ কোষকে কিল করে। বিজ্ঞানীরা ৪৬০ বর্গ মিটার জমি চাষ করে ৬০ গ্রাম ওজনের জিআরএফটি উৎপাদন করেছেন। যা দিয়ে প্রায় ১০ লাখ মাইক্রোবাইসাইড ডোজ তৈরি করা যাবে। এটাই প্রথম গাছ দিয়ে তৈরি এইডসের ওষুধ।
টিকা আবিষ্কারে মার্কিনীদের সাফল্যঃ
বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন এইডসের টিকা আবিষ্কার করার জন্য। সম্প্রতি আমেরিকার বিজ্ঞানীরা এমন একটি টিকা আবিষ্কার করেছেন। বানরের দেহে এইচআইভি যা এইডসের সমতুল্য ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা সম্ভব হয়েছে। বানরের দেহে এই ভাইরাসের নাম এসআইভি ভাইরাস। এটা এইডসের চেয়েও ১০০ গুণ শক্তিশালী। কিন্তু এই ভাইরাসে আক্রান্ত বানরকে এই নতুন টিকা দেবার পর দেখা গেছে- এসআইভি ভাইরাস অর্ধেকেরও বেশি কিল হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অরিগান রাজ্যের সায়েন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তিনি বলেছেন- এই টিকা ঐ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এমন কার্যকরী ফলাফল দিবে তা আমরা আগে ভাবিনি। আমরা কঠিন মান রক্ষা করে এই পরীক্ষাটি চালিয়েছি। সব রকম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বানরের দেহে ঐ ভাইরাসের কোন অস্তিত্ব ছিল না। বিজ্ঞানীরা এই টিকার এমন একটি সংস্করণের চেষ্টা করছেন। যা এইডসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এখন এর নানা রকম ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটা মানব দেহের জন্য নিরাপদ করার পর, আগামী ২ বছরের মধ্যেই মানব দেহে এটা টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এটা টিকা আবিষ্কারের কাছাকাছি চলে এসেছে।
এইডসের নতুন ওষুধ আবিষ্কারঃ
মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন- এই প্রথম এইডস নিরাময়ে আশ্চর্য একটি ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। নিরাময় করা খুবই কঠিন কারণ এটা প্রায়ই রোগীর দেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। কিন্তু দি নেচার বিজ্ঞান সাময়িকিতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন- এই সুপ্ত (লুকিয়ে থাকা) ভাইরাসকে কেটিয়ে বের করার ১ টা উপায় তারা আবিষ্কার করেছেন। আর সেটা হল- ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ ভরিনোস স্টেটেকের প্রয়োগ। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলো প্রকাশ হয়ে যায়। তারপর অন্তত ৮ টা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সাধারন এ্যান্টিরেট্রোভাইরাস ড্রাগ ব্যবহার করে। সেই ভাইরাসকে মেরে ফেলতেও সক্ষম হয়েছে। অক্রোফোট ও বিশ্ববিদ্যালয় ভাইরাস দমনের গবেষণায় নিয়োজিত আছেন বিজ্ঞানী জন প্রিন্টার। তিনি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎ কারে বলেছেন। মার্কিন এই গবেষণা নির্মূলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নয়া দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এই ভাইরাস আমাদের দেহের যৌনে একবারে মিশে যেতে পারে। তারপর এরা একেবারে ক্যান্সার কোষের মত আচরণ করে লুকিয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে- জাপানী বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এক গবেষণায় ক্যান্সার কোষকে ঘুম পাড়িয়ে থামতে সক্ষম হয়েছে। সে যাই হোক ভাইরাস কোন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা কোন চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। ফলে বর্তমানের কোন চিকিৎসা পদ্ধতি দিয়ে ঐ ঘুমন্ত ভাইরাসকে নাড়া দিতে পারে না। তাই এই ভাইরাস জেগে উঠেলেই, তাকে দমন করা সম্ভব। আর এই প্রথম আমরা ঐ ভাইরাসের ভান্ডারকে জেগে উঠার একটা ওষুধি উপায় বের করা গেছে। আর এই আবিষ্কারের ফলে আমরা এইডসকে নির্মূল করতে পারবো। এই গবেষণার সাথে জড়িত বিজ্ঞানীরা বলেছেন। সারা বিশ্বে যে ৪/৫ কোটি + রোগী আছে। তাদের জন্য কার্যকরী ওষুধ তৈরি করতে আরও অনেক পরীক্ষা- নিরীক্ষার দরকার হবে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মেডিসিনের অধ্যাপক ডক্টর ডেভিড মার্গলিস বলেছেন- অদূর ভবিষতে এই পদ্ধতির সঙ্গে আরও প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয়ে বিশ্বে এইডসে মহামারির অবসান ঘটানো সম্ভাব। পাশাপাশি এ্যান্টিভাইরাস থেরাপি কিভাবে নতুন সংক্রম ঠেকাতে পারে। তা নিয়েও আশা পূর্ণ ফলাফল পাওয়া গেছে। কে জানে কখন আসবে সেই শুভদিন, যখন আমরা বিশ্ব থেকে ঐ দুরারোগ্য ব্যাধি নির্মূল করতে পারবো। এ প্রসঙ্গে মানবতার সমস্যার মুক্তিদূত রাসূল (সা:) একটি- বানী উল্লেখযোগ্য- “সকল রোগেরই ওষুধ আছে। কিন্তু মৃত্যু ও বার্ধক্য ছাড়া” তাই সকল রোগের ওষুধ আমাদের আবিষ্কার করতে হবে। বহু ব্যর্থতার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা এইচআইভি নিরাময়ে একটা কার্যকরী ওষুধ ও পদক্ষেপ নেওয়া গেছে বলে আশা করেছেন বিজ্ঞানীরা।
এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে সাফল্যঃ
এইডসে নিশ্চিত মৃত্যুই যে রোগের পরিনাম। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন-অদূর ভবিষ্যতে এই রোগের ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব হবে। তাই বর্তমানে প্রতিরোধই এই রোগ হতে বাচাঁর জন্য, একমাত্র আবরনী বা রক্ষাকবজ। তাই বাচঁতে হলে, মানতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের হিসেব মতে সারা বিশ্বে ৩ কোটির বেশি এইডস রোগী আছে। প্রতিদিন গড়ে বিশ্বে ১২/১৩ হাজার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এই রোগের যে সব ওষুধ প্রচলিত আছে, সেগুলো হল- ট্যাবলেট কোয়ার্ড, বাইরাড, টিকা, ভরিনোস্টেটেক, অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ড্রাগ প্রভূতি। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা চেস্টা করে যাচ্ছেন এইচআইভি প্রতিরোধ করার জন্য। যে ভাইরাস মানব দেহে এইডস রোগ সৃষ্টি করে তাকে নির্মূল করার জন্য। এর বিরুদ্ধে নতুন আবিষ্কৃত টিকা বা ওষুধ ভালই ফল দিয়েছে।
সম্প্রতি আবিষ্কার করা গেছে এই ভাইরাসের চারদিকে যে প্রোটিন ক্যাপসূলের খোলস ক্যাপসিট কে। কিন্তু এত দিন ধরে গবেষণা করার পরও বিজ্ঞানীরা এই ক্যাপসিট ভাঙ্গার কোন উপায় বের করতে পারেননি। এখন বিজ্ঞানীরা একটি সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে এই ক্যাপসিট দেখতে কি রকম ও কিভাবে তা গঠিত তা জানতে পেরেছেন। তারা বলছেন এর ফলে ভবিষ্যতে এইডসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পথ খুলে যাবে। এই গবেষণাটি চালিয়েছেন- ক্লাউজ শোলটন ও হুয়ান পেরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন বিজ্ঞানী।
অধ্যাপক শোলটন বলেছেন-এটা এমন এক আবিষ্কার যেটার জন্য বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠানই কাজ করে আসছিল। বেশ কিছু গবেষণাগার এ নিয়ে কাজ করছিল, যে কিভাবে ক্যাপসিটের আণবিক গঠন উদ্ঘাটন করা যায়। এটা না হলে এর ওষুধ বের করা যাবে না। আমরা নানান পদ্ধতিতে ৩০০০০০০ (৩ মিলিয়ন) অণু বিশ্লেষন করে, একটা সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে এই ক্যাপসিটের কাঠামো তৈরি করেছি। এখন আমরা এই তথ্যগুলো কোন ওষুধ কোম্পানীকে দিলে, তারা আগের চেয়ে অনেক যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওষুধ তৈরির কাজ করতে পারবে। বিজ্ঞানী হুয়ান পেরিয়ার বলেছেন- এই জন্য তারা ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুপার কম্পিউটারের একটিকে ব্যবহার করেছেন। এর নাম ব্ল-ওয়াটার সুপার কম্পিউটার। যে সব সেমুলেশন বা পরীক্ষামূলক নমুনা এতে তৈরি করা সম্ভব, তা আর কোন কিছু দিয়ে সম্ভব নয়। এটা ঠিক কোন তাত্ত্বিক জরিপ নয়। এখানে আমরা যা পেয়েছি তা কিছু পরীক্ষার ভিত্তিতে পাওয়া। আর বাকী গুলো বায়ো-মেডিকেল তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই নতুন আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে যে ওষুধ ভবিষ্যতে তৈরি হবে। তা যে কি রকম হবে-তা আগে থেকেই বলা সম্ভব নয়। হয়ত তা হবে এক ধরনের টিকা। অথবা হইতে পারে এমন ধরনের চিকিৎসা যে এইচআইভি ভাইরাসের বংশ বৃদ্ধি রোধ করে দিতে পারে।
শেষ কথাঃ
এখনও পর্যন্ত এই রোগ নিরাময়ের ওষুধ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়নি। সারা বিশ্বের রোগীরা সহজে পাচ্ছেনা। তবে এর গবেষণা ও ওষুধ তৈরিতে আমেরিকা, চীন ও ইসলামী ইরানের বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আছে। অদূর ভবিষতে অন্যান্য ওষুধের মত এইডসের ওষুধ ও বাজারে পাওয়া যাবে। তখন এই রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যাবে। সে সময় আপনিও বলে উঠবেন- এইডস নিয়ে ভাবনা আর না, এইডস রোগের ওষুধ আছে আর কি ভাবনা ।


No comments:
Post a Comment