আধুনিক যুগ, বাংলা, বাংলা সাহিত্য
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
১। মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২। তাঁর পৈতৃক নাম ‘রোকেয়া খাতুন’ হলেও সাহিত্য জগতে তিনি ‘মিসেস আর এস হোসেন’ নামে পরিচিত।
৩। বেগম রোকেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই অর্থাৎ তিনি স্বশিক্ষিত। তবে বড় ভাই আবুল আসাদ ইব্রাহিম ও বড় বোন করিমুন্নেসা খানমের অনুপ্রেরণায় ঘরে বসে শিক্ষা লাভ করেন
৪। ১৬ বছর বয়সে বিহারের ভাগলপুরের (এ ভাগলপুরেই রোকেয়া সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন) সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে হয়।সাখাওয়াতের বয়স তখন ৩৮। ইংল্যান্ড থেকে কৃষি বিদ্যায় উচ্চশিক্ষিত সাখাওয়াত পেশায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
৫। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুুর পূর্বে সাখাওয়াত হোসেন রোকেয়াকে দশ হাজার টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন।এ টাকা দিয়ে তিনি ১৯০৯ সালের ১অক্টোবর স্বামীর দেশ বিহারের ভাগলপুরে মাত্র ৫ জন ছাত্রী নিয়ে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।কিন্তু এ বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ সম্পত্তির উত্তরাধিকার ইত্যাদি নিয়ে সাখাওয়াতের প্রথম পক্ষের কন্যা ও জামাতার সঙ্গে বিরোধের পরিণতিতে রোকেয়াকে কয়েক মাস পর ভাগলপুর ছেড়ে স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে আসতে হয়। ১৯১১ সালের ১৬মার্চ তিনি কলকাতায় দ্বিতীয়বার এ স্কুল চালু করেন।বর্তমানে কলকাতার ৯নং লর্ড সিংহ রোডে বিদ্যালয়টি চালু আছে।
৬।এটি প্রতিষ্ঠার সময়ে উর্দু মাধ্যম স্কুল ছিল।১৯৩১ সালে প্রাইমারি স্কুলটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে রূপান্তরিত হয়।তিনি আজীবন এ স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রী এবং সুপারিন্টেনডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।
৭। ১৯১৬ সালে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।
৮।রোকেয়ার প্রথম প্রকাশিত রচনা(মতিচূর,প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত) ‘পিপাসা: মহররম’।১৯০১ সালে জ্ঞানেন্দ্রলাল রায় ও হরেন্দ্রলাল রায় সম্পাদিত ‘নবপ্রভা’ পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়।রোকেয়ার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘মতিচূর’ (প্রথম খণ্ড -১৯০৪, দ্বিতীয় খণ্ড – ১৯২২)। এটি তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ।
৯। Sultana’s Dream (১৯০৮) তাঁর ইংরেজিতে লেখা ছোটগল্প।
১০। ‘অবরোধবাসিনী’ (১৯৩১) রোকেয়ার নকশাধর্মী রচনা। এখানে ছোট ছোট রচনাগুলোর মধ্যে ফুটে উঠেছে অবরুদ্ধ নারীর মর্মান্তিক জীবনকথা।রোকেয়া এগুলোকে ‘ঐতিহাসিক ও চাক্ষুষ ঘটনার হাসি-কান্না’ বলে অভিহিত করেছেন।এটি উৎসর্গ করেন তাঁর মাতা মোসাম্মৎ রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীকে।
১১। ‘পদ্মরাগ’ (১৯২৪) রোকেয়ার উপন্যাস। পদ্মরাগ উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।
১২। নবনূর,সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় তাঁর লেখাগুলো প্রকাশিত হত।
১৩। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ডিসেম্বর রোকেয়া পরলোকগমন করেন।মৃত্যুর আগের রাতেও এগারোটা পর্যন্ত তিনি ‘নারীর অধিকার’ নামক একটি প্রবন্ধ রচনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন( লেখাটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি)। ৯ ডিসেম্বর ‘রোকেয়া দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।কলকাতার কাছাকাছি (চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত) সোদপুরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।


No comments:
Post a Comment