আধুনিক যুগ, বাংলা, বাংলা সাহিত্য
১। দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর আসল নাম গন্ধর্বনারায়ণ সেন। স্কুলে বন্ধুরা ‘গন্ধ গন্ধ’ বলে ডাকত তাই তিনি পরিবর্তন করে ‘দীনবন্ধু মিত্র’ রাখেন।
২। কবিতা রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য চর্চার সূত্রপাত হলেও তিনি মূলত একজন নাট্যকার।
৩। তাঁর কবিতা ‘সংবাদ প্রভাকর'(১৮৩১) ও ‘সংবাদ সাধুরঞ্জন'(১৮৪৭) পত্রিকায় প্রকাশিত হত। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
৪। নবীন তপস্বিনীর মেয়ে লীলাবতী ও কমলে কামিনী দীনবন্ধুর নীল দর্পণ নাটক দেখতে গেল।
উপরের বাক্যের নবীন তপস্বিনী(১৮৬৬), লীলাবতী(১৮৬৭), কমলে কামিনী (১৮৭৩) ও নীলদর্পণ (১৮৬০) হল দীনবন্ধু মিত্রের নাটক।
৫। নীলদর্পণ (১৮৬০): ‘নীলদর্পণ’ একটি সামাজিক নাটক। এটি দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও শ্রেষ্ট নাটক।নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচারে লাঞ্চিত নীল চাষীদের দুরবস্থা অবলম্বনে এ নাটক রচিত হয়েছে। ঢাকা বা ‘বাংলা প্রেস'(ঢাকার প্রথম ছাপাখানা)থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক ‘নীলদর্পণ’। নাটকটির কাহিনিও মেহেরপুর অঞ্চলের, দীনবন্ধু ঢাকায় অবস্থানকালে তা রচনাকরেন।নাটকটির ঘটনা,বিষয়চিন্তা,রচনাস্থান,প্রকাশস্থান,মুদ্রণালয়,প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে তাই এ নাটককে ‘বাংলাদেশের নাটক’ বলা হয়।
৬।’নীলদর্পণ’ নাটকের প্রথম প্রকাশের সময় দীনবন্ধুর নাম ছিল না। ‘নীলকর-বিষধর-দংশন-কাতর-প্রজানিকর-ক্ষেমঙ্করেণ-কেনচিৎ পথিকেনাভি প্রণীতম’ এ নামে প্রকাশিত হয়।গ্রন্থটিকে’ Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror’ (১৮৬১) নামে ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লঙ। তবে প্রকাশের সময় অনুবাদকের নামও গোপন রাখা হয়। মাইকেল এ অনুবাদে ‘A Native’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের দায়ে প্রকাশক জেমস লঙকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়(অনুবাদকের নাম না থাকায় তাঁর জরিমানা করা যায়নি)। কালীপ্রসন্ন সিংহ এ জরিমানার টাকা আদালতে উপস্থিত হয়ে পরিশোধ করেন।এটিই প্রথম বাংলা নাটক যা ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
৭।’নীলদর্পণ’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে প্রেরিত হয়।স্বদেশ ও বিদেশে নীলকরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।সরকার এর সত্যতা যাচাইয়ে ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠনে বাধ্য হয়। ‘নীলদর্পণ’ নাটক দেখতে গিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মঞ্চে জুতো ছুড়ে মেরেছিলেন।বঙ্কিমচন্দ্র এ নাটককে স্টো-এর Uncle Tom’s Cabin -এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ,তোরাপ,সাবিত্রী,সরলতা,ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।
৮। ‘নীলদর্পণ’ ট্র্যাজেডি নয়, মেলোড্রামা (ভয়ানক রসের)।
৯। নাটক ছাড়াও দীনবন্ধু মিত্র প্রহসন রচনায় দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর প্রহসনগুলো হল :
** বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬) ; সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে তিনি এ প্রহসন রচনা করেন।
** সধবার একাদশী (১৮৬৬); ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বেশ্যাসঙ্গকে ব্যঙ্গ করে এ প্রহসন রচনা করেন।
** জামাই বারিক (১৮৭২)
১০। দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কাব্যগুলো হল:
সুরধুনী কাব্য (প্রথম ভাগ ১৮৭১ ও দ্বিতীয় ভাগ ১৮৭৬),দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২)।
১১। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


No comments:
Post a Comment