গণিত শাস্ত্রটি প্রায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মহা কঠিন এক বিষয়। পরীক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী শুধু গণিত শাস্ত্রের গ্যাঁড়াকলে পড়ে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে। আবার অনেক শিক্ষার্থী এ শাস্ত্রের কলা-কৌশল বুঝে পরীক্ষায় দারুণ সফলতা অর্জন করে থাকে। গণিত শাস্ত্রটি কোথায় এবং কিভাবে আবিস্কার হলো তা জানতে গিয়ে দেখা যায় প্রাচীন মিশরে খ্রিস্টপূর্ব আড়াই হাজার বছর আগে গণিত বিষয়ে প্রথম একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। প্যাপিরাসের ছালে রচিত এই বিস্ময়কর পাণ্ডুলিপিটি আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার হেনরি নামের এক পুরাতত্ত্ববিদ। এতে জানা যায় প্রাচীন যুগে মানুষের গণিত শাস্ত্র আবিষ্কারের ইতিবৃত্ত।
পৃথিবীতে যা কিছু রহস্য, যা কিছু অজ্ঞাত, তা সকলই জানার নিয়ম। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসন্ধানের নিয়ম।’ এলক্ষ্যে প্রাচীন মিশরে শুরু হয় গণিত শাস্ত্রের যাত্রা। ঐতিহাসিক জোসেফার এর মতে, আব্রাহামের কাছ থেকে পাটি গণিতের শিক্ষা গ্রহণ করে মিশরীয়রা। মিশরীয়রা ভগ্নাংশ এবং লক্ষাধিক সংখ্যা হিসেবের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারত। মিশরের নয়ক্রেতিস নগরীর যত নামের এক দেবতা আইবিস সারস পাখিকে গণিতের জন্য পবিত্র জ্ঞান করতেন। মিশরীয় অংকপাতন ছিল দশমিক পদ্ধতির। এতে একক, দশক, শতক বোঝাতে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করা হত। মূলত এই প্রতীকগুলো ছিল অর্থবোধক। এর মধ্যে এক হল দণ্ডায়মান ষষ্টি। দশ হাজার হল অঙুলি। এক লক্ষ হল পাখি। দশ লক্ষ হল বিস্ময়ভিভূত মানুষ। প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা কীলকাকৃতির প্রতীক চিহ্ন ব্যবহার করে এক থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা নির্দেশ করত। আবার দশ থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা নির্দেশ করত। আবার দশ থেকে উনষাট পর্যন্ত সংখ্যাগুলো শোয়ানো তিরের মত প্রতীকের সাহায্যে নির্দেশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল কিউনিফর্ম। প্রথম ১ থেকে ৬০ পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি চালু করে ব্যাবিলনের অধিবাসীরাই।
মিশরের প্রাচীনযুগের মঠ-মন্দিরের দেয়ালচিত্র ও লেখা গণিত চর্চার ইতিাহসকে প্রকাশ করে। খ্রিস্টপূর্ব ৩,১০০ অব্দের একটি ধাতব খণ্ডে এর প্রমাণ রয়েছে। মিশরের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম পিরামিড ৩টি নির্মাণকাল খ্রিষ্টপূর্ব ২৯০০ অব্দ। গিজের এই পিরামিডগুলো নির্মাণে নিখুঁত ও উন্নতমানের গণিত ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে গণিতশস্ত্রে ০ শূন্য আবিষ্কারকে যুগান্তকারী ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটাকে এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বলা হচ্ছে। জানা যায়, একদল ভারতীয় পণ্ডিত শূন্য আবিষ্কার করেন। ৭ম শতাব্দিতে গণিত শাস্ত্রবিদ ব্রহ্মগুপ্ত শূন্য আবিষ্কার করেন। প্রথমে শূন্যের কোন প্রতীক ছিল না। তাই শূন্য ব্যবহারে ফাঁকা চিহ্ন দেয়া হত। এরপর ছোট বিন্দু থেকে আরবদের দ্বারা ইউরোপে সংখ্যা লেখার পদ্ধতি চালু হলে তা ক্রমে গোলাকার রূপ নেয়। পণ্ডিত ব্রহ্মগুপ্তের কাজকে আরবিতে অনুবাদ করা হয়। কণক নামে এক ভারতীয় গণিতবিদ বাগদাদের খলিফার দরবারে এটি উপস্থাপন করেন। সেখান থেকেই পরে সারা বিশ্বে শূন্যের ব্যবহার শুরু হয়। মুসলিম গণিতবিদ আল খোয়া রিজমির বীজগণিতে বই ইতালিয় গণিতবিদ ফিলোলাকি অনুবাদ করেন। এরপর তা সমগ্র ইউরোপে প্রচলিত হয়। মুসলমানেরা শূন্যকে সিফর বলত। লাতিন ভাষায় তা হল জেফরিয়াস। সেখান থেকে ইংরেজিতে জিরো। মিশরীয় পুরোহিত আহমোশ প্রথম বীজগণিতের প্রবর্তন করেন।


No comments:
Post a Comment